অনেক দিন আগের কথা। বাংলাদেশের এক প্রত্যন্ত গ্রামে বাস করত এক সাহসী যুবক, নাম তার রতন। গ্রামের পাশেই ছিল এক পুরোনো, পরিত্যক্ত জমিদার বাড়ি। গ্রামের লোকেরা বলত, ওই বাড়িতে এক অশুভ আত্মা বাস করে। সন্ধ্যার পর কেউ ওই বাড়ির আশেপাশে যেত না।
রতন এসব গল্পে বিশ্বাস করত না। সে ভাবত, এগুলো সব গাঁজাখুরি গল্প। একদিন তার বন্ধুদের সাথে বাজি ধরল সে ওই জমিদার বাড়িতে রাত কাটাবে। বন্ধুরা তাকে অনেক বারণ করল, কিন্তু রতন শোনল না।
সেই রাতে, যখন চারপাশ নিস্তব্ধ, রতন একা একা জমিদার বাড়ির দিকে রওনা দিল। ভাঙা পাঁচিল টপকে সে ভেতরে ঢুকল। ভেতরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, আর স্যাঁতস্যাঁতে গন্ধ। দেওয়ালে শেওলা জমেছে, আর ঝুলছে মাকড়সার জাল।
রতন একটি বড় ঘরে গিয়ে বসল। তার হাতে ছিল একটা টর্চলাইট। হঠাৎ সে একটা ফিসফিস শব্দ শুনতে পেল। মনে হল কেউ যেন তার নাম ধরে ডাকছে। সে চমকে উঠে টর্চলাইট ঘুরিয়ে দেখল, কেউ নেই।
কিছুক্ষণ পর, সে দেখল ঘরের এক কোণে একটা আবছা ছায়া নড়ছে। ছায়াটা ধীরে ধীরে বড় হতে লাগল এবং মানুষের আকার ধারণ করল। রতন ভয়ে জমে গেল। সে দেখল, ছায়ামূর্তিটির চোখ জ্বলছে এবং মুখ দিয়ে অদ্ভূত আওয়াজ বেরোচ্ছে।
রতন বুঝতে পারল, গ্রামের লোকেরা যা বলত তা সত্যি। এটা কোনো সাধারণ বাড়ি নয়, এখানে সত্যিই কোনো অশুভ শক্তি রয়েছে। ভয়ে তার শরীর কাঁপতে শুরু করল। সে আর এক মুহূর্তও সেখানে থাকতে চাইল না।
কোনোমতে সে ঘর থেকে বেরিয়ে বাইরে ছুটে গেল। গ্রামের দিকে দৌড়াতে দৌড়াতে সে আর পিছনে ফিরে তাকাল না। সেই রাতে রতন তার বাজি হেরে গেল, কিন্তু জীবন নিয়ে ফিরে আসতে পারল। এরপর থেকে রতন আর কখনো ভূতের গল্পকে হেসে উড়িয়ে দেয়নি।
এই গল্পটি কেমন লাগল? আপনি কি এমন আরও গল্প শুনতে চান?

Comments
Post a Comment